Header Border

কুমিল্লা, মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) ৩০°সে

করোনাভাইরাস: লকডাউনের মধ্যে একাকী তিন নারীর ঘরবন্দী জীবন

বিশেষ করে যারা একা থাকেন, তাদের জন্য সেল্ফ-আইসোলেশনের জীবন হতে পারে ভীষণই দুর্বিষহ এক অভিজ্ঞতা।
কিভাবে লকডাউনের মধ্যে নিজের মনকে চাঙ্গা রাখবেন? নিজেকে ব্যস্ত রেখে একাকীত্বকে দূরে সরিয়ে রাখবেন?
পৃথিবীর তিন প্রান্তের তিন নারীর সাথে কথা বলেছেন বিবিসির কেলি লেই-কুপার। এই তিন নারীর একজন ভারতের দিল্লিতে, একজন ইতালির মিলানে, আর শেষজন যুক্তরাষ্ট্রের মেইনে।
তারা তিনজনই একা, তিন জনই লকডাউনে আটকা পড়েছেন নিজ নিজ এ্যাপার্টমেন্টে।অপর্ণা, দিল্লি
গত কিছু দিনে তার বাড়ির নিরাপত্তা রক্ষীরা ছাড়া আর কোন মানুষের চেহারা দেখেননি অপর্ণা।
ভারতের রাজধানী দিল্লির কাছে গুরগাঁওয়ে তার মায়ের পুরোনো এ্যাপার্টমেন্টে একা থাকেন তিনি।
পুরো এ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সটির গেট এখন তালা দেয়া, সাথে আছে নিরাপত্তা রক্ষীর সার্বক্ষণিক পাহারা।
অপর্ণার বয়স ২৬। লকডাউন শুরু হবার পর তিনি সেই গেট পার হয়েছেন মাত্র এক বার।
দিনে দু‌ই বার তিনি ঘর থেকে বের হন – তার দুটি কুকুর জুলস আর ইয়োগীকে হাঁটানোর জন্য।
লুসিয়া, মিলান
বেশ কিছুকাল নিউইয়র্কে ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করার পর মিলানে ফিরে আসতে পেরে বেশ খুশি ছিলেন লুসিয়া।
সারা দিন ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে ঘুরে কাজ করা , আর দিনের শেষে বন্ধুদের নিয়ে খেতে যাওয়া – ভালোই কাটছিল মিলানে লুসিয়ার দিনগুলো।

কিন্তু কয় ‌‌‍মাস পার না হতেই ইতালিতে ছড়িয়ে পড়লো করোনাভাইরাস, আর মিলান শহর পরিণত হলো ইতালিতে করোনাভাইরাসের এপিসেন্টারে।
লুসিয়া সহ লক্ষ লক্ষ ইতালিয়ান আটকা পড়লেন লকডাউনে, শুরু হলো দিনের পর দিনের জন্য তার ঘরবন্দী জীবন।
স্বাভাবিকভাবেই সারা দিন এ্যাপার্টমেন্টে বসে থাকাটা ছিল খুবই কষ্টকর। অন্তত: প্রথম দু‌এক সপ্তাহ।
তবে এখন – বাধ্য হয়েই – লুসিয়াকে মানিয়ে নিতে হচ্ছে এই একাকী ঘরবন্দী জীবনের সাথে।
তিনি এখনো মিস করেন তার স্বাধীনতা আর অন্যদের সাহচর্য।
কিন্তু সারা দেশে যখন এত মানুষ মারা যাচ্ছে তখন তার প্রিয়জনেরা যে সবাই সুস্থ আছে – এই বা কম কী? এমনটাই ভাবেন তিনি।
এ্যাঞ্জি , মেইন, যুক্তরাষ্ট্র
এ্যাঞ্জি একলা আছেন গত চার বছর ধরে। তার স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবার পর তার নিজের এ্যাপার্টমেন্টটি ছিল তার মানসিকভাবে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার একটা অংশ ।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে যখন করোনাভাইরাস স‍ংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লো – তখন তার এই একাকী জীবনের সমস্যাগুলো যেন আচমকাই এসে তাকে আঘাত করলো।
সপ্তাহ দুয়েক আগে এ্যাঞ্জির চাকরিটা চলে যায়। ‍স্বাভাবিক সময়ে এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের কাছ থেকে একটা সান্ত্বনা মেলে, বা একজন বন্ধু হয়তো দাওয়াত করে আমাকে উৎফুল্ল করে তুলতে চেষ্টা করে।
কিন্তু এখন এসব কিছুই নেই। এ্যাঞ্জি এখন একেবারেই একা।
সামাজিক সম্পর্ক এবং শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য
অনেক গবেষণাতেই দেখা গেছে যে মানুষের সামাজিক সম্পর্কগুলো আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের মতো শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ।
বিভিন্ন গবেষণায় তীব্র একাকীত্বের সাথে উচ্চ মৃত্যুহার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার সম্পর্ক দেখা গেছে।
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং যোগাযোগহীনতা কীভাবে মস্তিষ্কের আচরণকে প্রভাবিত করে – তার গবেষণার জন্য সুপরিচিত মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক নাওমি আইজেনবার্গার।
তিনি বলছেন, বর্তমানে এই যে শত শত কোটি লোক তাদের স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে – তা নজিরবিহীন এবং একাকী বসবাসকারী লোকদের জন্য প্রিয়জনদের সাথে যুক্ত থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হুদা দম্পতি
ব্লুটুথ কেন বন্ধ রাখবেন
লকডাউনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বদল আনুন ব্রেকফাস্টে, পাতে থাকুক এ সব
প্যানক্রিয়াটাইটিস থেকে মুক্তি সম্ভব
আমপানের তাণ্ডবের মধ্যেই কলকাতায় মৃত ১৯
করোনায় ‘হাই রিস্ক’ মানুষ কারা? কী করা উচিত তাঁদের?

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

আরও খবর

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

এখানে বিজ্ঞাপন দিন